৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রশ্ন সমাধান (স্কুল পর্যায়) ১১-১২-২০১০
সংবাদপত্রে একটি আবেদন প্রকাশের জন্য কার বরাবর পাঠাতে হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সম্পাদকের বরাবর।
যেকোনো সংবাদপত্রে সাধারণ মানুষের মতামত, সমস্যা বা কোনো আবেদন প্রকাশের জন্য চিঠি বা লেখাটি সবসময় সেটির সম্পাদক (Editor)-এর ঠিকানায় পাঠাতে হয়। কারণ, পত্রিকার নীতি নির্ধারণ এবং ভেতরের পাতা বা সম্পাদকীয় বিভাগে কী প্রকাশ পাবে, তা চূড়ান্ত করার মূল দায়িত্ব সম্পাদকেরই থাকে।
পত্র শব্দটির আভিধানিক ও ব্যবহারিক অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চিহ্ন বা স্মারক। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- 'পত্র' শব্দটির মূল সংস্কৃত ধাতু 'পৎ' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো পড়া বা ঝরে পড়া।
- গাছের পাতা যেমন ঝরে পড়ে, তেমনি প্রাচীনকালে গাছের পাতায় লিখে কোনো বার্তা বা তথ্য পাঠানো হতো।
- এই লিখন পদ্ধতি থেকেই 'পত্র' শব্দটি একটি চিহ্ন বা স্মারক হিসেবে পরিচিতি পায়, যা কোনো নির্দিষ্ট বার্তা বহন করে।
সহজ কথায়, পত্র মানেই হলো কোনো তথ্যের লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা প্রেরকের পক্ষ থেকে প্রাপকের কাছে একটি স্মারক হিসেবে পৌঁছায়।
বাংলা ভাষা ও সাহ্যিতের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি?
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধন সংগীতের সংকলন। কেন এটিই সঠিক, তা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- সময়কাল: চর্যাপদ আনুমানিক ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো দলিল।
- আবিষ্কার: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- ভাষার রূপ: এর ভাষা 'সন্ধ্যা ভাষা' বা আলো-আঁধারি নামে পরিচিত, যা প্রাচীন বাংলা ভাষার বিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে স্বীকৃত।
সহজ কথায়, বাংলা সাহিত্যের আদি উৎস বা শুরুর বিন্দু খুঁজলে আমরা সবসময় চর্যাপদ-কেই পাই।
ব্যাসবাক্যের অপর নাম কী?
যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি আশুগৃহে তার দেখিবে না আর নিশিথে ভাতি- এই অংশের সম্প্রসারণে কোন ভাষাটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপব্যয়ের পরিণাম অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ কবিতাটির মূল ভাব হলো সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং অপচয় রোধ করা।
- দিনের বেলা যখন সূর্যের আলো পর্যাপ্ত থাকে, তখন মোমবাতি জ্বালানো কেবল সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং এটি একটি বোকামি।
- যে ব্যক্তি দিনের বেলা অপ্রয়োজনে আলো জ্বালিয়ে শক্তি বা সম্পদ নষ্ট করে, বিপদের সময় বা রাতের অন্ধকারে তার কাছে আর কোনো সম্বল অবশিষ্ট থাকে না।
- অর্থাৎ, অকারণে সম্পদ নষ্ট করলে শেষ পর্যন্ত মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, আর এটাই হলো অপব্যয়ের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক পরিণাম।
হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে কোন চিহ্ন বসে?
হৃদয়াবেগ বা মনের তীব্র অনুভূতি প্রকাশ করতে হলে আমরা সাধারণত বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করি। বিষয়টি খুব সহজ:
- যখন আমরা মনের আনন্দ, দুঃখ, ভয় বা বিস্ময় প্রকাশ করি, তখন বাক্যের শেষে বা শব্দের পরে এই চিহ্নটি বসে।
- যেমন: "কী চমৎকার দৃশ্য!" বা "হায়! আমি শেষ হয়ে গেলাম।"
- এই চিহ্নটি মূলত মনের আবেগ বা আকস্মিক অনুভূতিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
তাই সঠিক উত্তর হলো বিস্ময়।
‘মহাকীর্তি’ – এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
‘মহাকীর্তি’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো মহতী যে কীর্তি। এটি একটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- যখন কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের সাথে ‘মহৎ’ বা ‘মহান’ যুক্ত হয়, তখন সমাস করার সময় ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী ‘মহৎ’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ‘মহতী’ ব্যবহৃত হয়।
- যেহেতু ‘কীর্তি’ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক, তাই এর বিশেষণ হিসেবে ‘মহতী’ শব্দটিই এখানে সবচেয়ে উপযুক্ত।
- সহজ কথায়, মহৎ যে কীর্তি—এভাবে না বলে ব্যাকরণের নিয়ম মেনে আমরা বলি মহতী যে কীর্তি।
সারাংশের মূল উদ্দেশ্য কী?
সারাংশের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো বড় রচনার মূল কথা বা ভাবকে সংক্ষেপে প্রকাশ করা। এখানে সঠিক উত্তর হলো অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরা, কারণ:
- সারাংশ মানেই হলো মূল বিষয়বস্তুর নির্যাস বের করে আনা।
- এটি কোনো বড় লেখার অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে ভেতরের গভীর অর্থ বা মূল সুরটি পাঠকের সামনে স্পষ্ট করে তোলে।
- সহজ কথায়, মূল রচনার মূলভাব বা অন্তর্নিহিত তাৎপর্যটুকু অল্প কথায় গুছিয়ে লেখাই হলো সারাংশের কাজ।
কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাধু ভাষা। এর কারণ হলো সাধু ভাষার ব্যাকরণগত কাঠামো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং নিয়মনিষ্ঠ।
- সুনিয়ন্ত্রিত পদবিন্যাস: সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপ সবসময় অপরিবর্তিত ও সুনির্দিষ্ট থাকে, যা একে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো দেয়।
- ব্যাকরণগত কঠোরতা: এই রীতিতে ব্যাকরণের নিয়মগুলো খুব কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হয়, তাই এর পদবিন্যাস কখনোই এলোমেলো হয় না।
- স্থায়িত্ব: সাধু ভাষা যেহেতু অপরিবর্তনশীল, তাই এর বাক্য গঠনের নিয়মগুলো যুগ যুগ ধরে একই রকম রয়ে গেছে, যা একে একটি নির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত রূপ দান করেছে।