প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (সুরমা) পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান ২০১২
নিচের ভগ্লাংশগুলোর মধ্যে কোনটি বৃহত্তম?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৪/৫। ভগ্নাংশগুলোর মধ্যে কোনটি বড় তা খুব সহজে বের করতে আমরা বজ্রগুণন (Cross Multiplication) পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি অথবা দশমিক মানে রূপান্তর করতে পারি।
- $\frac{3}{4} = 0.75$
- $\frac{1}{2} = 0.5$
- $\frac{4}{5} = 0.8$
- $\frac{3}{5} = 0.6$
দশমিক রূপগুলো তুলনা করলে দেখা যায় যে, $0.8$ মানটি সবচেয়ে বড়। তাই সবচেয়ে বড় ভগ্নাংশটি হলো $\frac{4}{5}$।
ইয়াসির আরাফাত নোবেল পুরস্কার পান কোন সালে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৯৯৪ সাল। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ইয়াসির আরাফাত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিশেষ অবদানের জন্য ইজরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রাবিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজের সাথে যৌথভাবে ১৯৯৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নীল আর্মস্ট্রং।
১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাপোলো ১১ মিশনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। তার এই ঐতিহাসিক পদচারণার মাধ্যমেই মানবজাতি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর উপগ্রহে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
প্রোটিনের মূল উপাদান কী?
প্রোটিনের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি বিশাল চেইন বা পলিমার।
- প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে একটি অ্যামিনো গ্রুপ থাকে, যার প্রধান উপাদানই হলো নাইট্রোজেন।
- কার্বোহাইড্রেট বা লিপিডের সাথে প্রোটিনের মূল পার্থক্য এখানেই—প্রোটিন অণুতে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, যা একে অনন্য করে তোলে।
সহজ কথায়, নাইট্রোজেন ছাড়া প্রোটিন অণু গঠিত হওয়া অসম্ভব। তাই প্রোটিনের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে নাইট্রোজেনকে চিহ্নিত করা হয়।
এইচআইভি কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভাইরাস। কারণ এইচআইভি (HIV) হলো এমন এক ধরনের জীবাণু যা মূলত মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে দুর্বল করে দেয়। এটি কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ সংক্রামক ভাইরাস যার পূর্ণরূপ হলো হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস।
এইডস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা। কারণ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তরুণ সমাজ বা অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরাই এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় না চলার কারণে এই বয়সীরাই এই রোগের শিকার বেশি হয়।
কিসের অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়?
শিশুদের রিকেটস রোগ হওয়ার মূল কারণ হলো শরীরে ভিটামিন 'ডি'-এর অভাব। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে মনে রাখতে পারেন:
- আমাদের হাড়ের গঠন ও মজবুত হওয়ার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অত্যন্ত জরুরি।
- শরীরে ভিটামিন 'ডি' না থাকলে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ঠিকমতো শোষণ হতে পারে না।
- ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং বেঁকে গিয়ে রিকেটস রোগের সৃষ্টি করে।
সহজ কথায়, হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন 'ডি' হলো অপরিহার্য উপাদান, যার অভাবে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
‘মিষ্টি কুমড়া‘ কোন ধরনের খাদ্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভিটামিন। কারণ মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন), ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই থাকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দারুণভাবে কাজ করে।
দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনের জন্য কোন উপাদানটি দরকার?
দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনের জন্য সঠিক উত্তর হলো আমিষ। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে মনে রাখা যায়:
- আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি।
- শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা আঘাত পেলে তা দ্রুত সারিয়ে তুলতে আমিষের কোনো বিকল্প নেই।
- শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং পেশি গঠনের জন্য আমিষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সহজ কথায়, শরীরের গঠন ও মেরামতের কাজগুলো মূলত আমিষই সম্পন্ন করে থাকে। তাই একে শরীরের 'গাঠনিক উপাদান' বলা হয়।
‘মঙ্গল‘ গ্রহের কয়টি উপগ্রহ আছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: ২টি।
খুব সহজেই মনে রাখতে পারেন যে, মঙ্গল গ্রহের নিজস্ব দুটি ছোট উপগ্রহ বা চাঁদ রয়েছে। এদের নাম হলো ফবস (Phobos) এবং ডিমোস (Deimos)। সৌরজগতের পাথুরে গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবী ছাড়া একমাত্র মঙ্গল গ্রহেরই একাধিক উপগ্রহ বা চাঁদ আছে!