উদ্ভিদ কোন অঙ্গের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে?
উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরির জন্য মূলত পাতাকে ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়াটি খুব চমৎকার এবং সহজ:
- উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক থাকে, যা সূর্যের আলোকে শোষণ করতে সাহায্য করে।
- বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) এবং মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে শোষিত পানি ($H_2O$) পাতায় পৌঁছায়।
- সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ক্লোরোফিল এই উপাদানগুলোকে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, যাকে আমরা সালোকসংশ্লেষণ বলি।
সহজ কথায়, গাছের পাতা হলো তার রান্নাঘর, যেখানে সূর্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করে।
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আলবেনিয়া। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আলবেনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশ নয়।
- আলবেনিয়া মূলত দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র।
- অন্যদিকে, চিলি, প্যারাগুয়ে এবং সুরিনাম—এই তিনটি দেশই দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, আলবেনিয়া এড্রিয়াটিক সাগরের তীরে অবস্থিত, যা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে।
সহজ কথায়, মহাদেশীয় অবস্থানের পার্থক্যের কারণেই আলবেনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর তালিকায় পড়ে না।
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নাইট্রোজেন। কারণটা খুব সহজ—বজ্রপাতের সময় আকাশের উচ্চ তাপমাত্রায় বাতাসে থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। পরবর্তীতে এটি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড হিসেবে মাটিতে পড়ে এবং বিভিন্ন খনিজের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ তৈরি করে। এভাবেই প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে উদ্ভিদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন বৃদ্ধি পায়।
টুইস্টেড পুষ্পপত্র বিন্যাস কোন উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জবা।
খুব সহজে মনে রাখার কৌশল হলো, জবা ফুলের ক্ষেত্রে পুষ্পপত্রগুলোর কিনারগুলো একটি অন্যটিকে নিয়মিতভাবে আংশিকভাবে ঢেকে রাখে—এরকম বিন্যাসকেই টুইস্টেড বা পাকানো পুষ্পপত্র বিন্যাস বলা হয়। এটি জবা ফুলের একটি অন্যতম প্রধান ও চেনা বৈশিষ্ট্য।
গিমা কাপ কোথায় পাওয়া যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Marchantia।
ব্রায়োফাইটা (Bryophyte) শ্রেণীর অন্তর্গত Marchantia উদ্ভিদের থ্যালাসের উপর বিশেষ ধরনের পেয়ালাকৃতির অঙ্গ বা কাপ দেখা যায়, যেগুলোকে গিমা কাপ (Gemma cup) বলা হয়। এর ভেতরে অজৈব জননের জন্য বিশেষ একক বা 'গিমা' উৎপন্ন হয়, যা পরবর্তীতে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
মরুজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পাতা কন্টকে পরিণত হয়।
বিষয়টা খুব সহজ! মরু অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট থাকে। তাই উদ্ভিদ যেন অতিরিক্ত মাত্রায় প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচনের মাধ্যমে পানি হারিয়ে না ফেলে, সেজন্য তাদের পাতাগুলো রূপ বদলে কাঁটায় বা কন্টকে পরিণত হয়। এতে গাছ নিজের ভেতরে পানি জমিয়ে রেখে সহজে বেঁচে থাকতে পারে।
উদ্ভিদ কোষের অভ্যন্তরের pH রক্ষা করে কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কোষ গহ্বর।
খুব সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো, উদ্ভিদ কোষের ভেতরে থাকা কোষ গহ্বরের রস বা কোষরস কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজের বর্জ্য পদার্থ জমিয়ে রাখে এবং কোষের ভেতরের অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য অর্থাৎ pH নিখুঁতভাবে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
নিচের কোন উদ্ভিদে কোরালয়েড মূল পাওয়া যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Cycas। কারণ সাইকাস উদ্ভিদের প্রধান মূলের পাশাপাশি কিছু বিশেষ ধরনের মূল মাটি থেকে ওপরে উঠে আসে, যেগুলোকে কোরালয়েডের মতো শাখাবিশিষ্ট দেখায়। এই বিশেষ মূলগুলোকে কোরালেয়েড মূল বলা হয়, যা নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে সাহায্য করে।
কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Nerium odoratum (করবী ফুল)। এটি কোনো জলজ উদ্ভিদ নয়, বরং এটি একটি চিরসবুজ গুল্মজাতীয় স্থলজ উদ্ভিদ যা সাধারণত আমাদের আশপাশে বা বাগানে মাটি জন্মায়। পক্ষান্তরে, বাকি অপশনগুলোর উদ্ভিদগুলো জলজ পরিবেশে জন্মে থাকে।
ইমাসকুলেশনের কারণ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো স্ব-পরাগায়ন রোধ।
ইমাসকুলেশন হলো কৃত্রিম পরাগায়নের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, যেখানে ফুল ফোটার আগেই অপরিণত স্ত্রীস্তবক বা গর্ভমুণ্ডের ক্ষতি না করে ফুল থেকে পুংকেশরগুলো খুব সাবধানে সরিয়ে ফেলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ফুলের নিজস্ব পরাগরেণু দিয়ে যেন নিজের গর্ভমুণ্ডে পরাগায়ন না ঘটে, অর্থাৎ স্ব-পরাগায়ন রোধ করা এবং আমাদের ইচ্ছেমতো নির্দিষ্ট উদ্ভিদের পরাগরেণুর সাহায্যে ইতর পরাগায়ন নিশ্চিত করা।