অতি তারল্যময় সম্পদ বলতে বুঝায় -
এখানে সঠিক উত্তর হলো সহজে নগদে রূপান্তরযোগ্যতা। বিষয়টি একদম সহজ—কোনো সম্পদকে যখন খুব দ্রুত এবং কোনো রকম লোকসান ছাড়াই নগদ টাকায় বদলে ফেলা যায়, তখন তাকেই আমরা 'অতি তারল্যময় সম্পদ' বলি।
সহজ ভাষায় এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- দ্রুততা: সম্পদটি বিক্রি করতে দীর্ঘ সময় লাগে না।
- মূল্য স্থিতিশীলতা: নগদে রূপান্তর করার সময় সম্পদের বাজারমূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
- উদাহরণ: যেমন আমাদের হাতে থাকা নগদ টাকা বা ব্যাংকে থাকা সেভিংস অ্যাকাউন্ট, এগুলোকে যেকোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।
সহজ কথায়, যে সম্পদ যত দ্রুত নগদ টাকায় পরিণত হয়, তার তারল্য (Liquidity) তত বেশি।
কোনটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল?
সঠিক উত্তর হলো চেক। এটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল বা Negotiable Instrument হিসেবে বিবেচিত হয়। এর কারণগুলো খুব সহজ:
- সহজ হস্তান্তর: চেক শুধুমাত্র অর্পণ বা হস্তান্তরের মাধ্যমেই একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে মালিকানা পরিবর্তন করা যায়।
- আইনি স্বীকৃতি: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, চেক একটি বৈধ দলিল যা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।
- অর্থের বিকল্প: এটি নগদ অর্থের মতোই কাজ করে, কারণ চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে প্রাপক সহজেই টাকা তুলতে পারেন।
সহজ কথায়, যে দলিলটি কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হাতবদল করে অন্যের নামে মালিকানা দেওয়া যায়, সেটিই হস্তান্তরযোগ্য দলিল। আর চেক এই শর্তটি পুরোপুরি পূরণ করে।
নিচের কোনটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস?
সঠিক উত্তর হলো ডিবেঞ্চার। এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম কারণ এর মাধ্যমে কোম্পানি দীর্ঘ সময়ের জন্য মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
- ডিবেঞ্চার হলো এক ধরনের ঋণপত্র, যার মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা ধার নেয়।
- সাধারণত ডিবেঞ্চারের মেয়াদ ৫ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি হয়ে থাকে, তাই এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের তালিকায় পড়ে।
- কোম্পানি ডিবেঞ্চারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে, যা কোম্পানিকে বড় ধরনের বিনিয়োগ বা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সাহায্য করে।
সহজ কথায়, দীর্ঘ সময়ের জন্য বড় অংকের মূলধন প্রয়োজন হলে কোম্পানি ডিবেঞ্চার ইস্যু করে থাকে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রধান লক্ষ্য—
আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো শেয়ারহোল্ডার সম্পদ সর্বাধিক করা। এটি মূলত কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মাপকাঠি। বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিচে দেওয়া হলো:
- শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি: যখন একটি কোম্পানি তার মুনাফা এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে, তখন বাজারে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি লাভবান হন।
- সম্পদ সৃষ্টি: শুধুমাত্র মুনাফা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ রিটার্ন নিশ্চিত করাই হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনার আসল কাজ।
- দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব: সম্পদ সর্বাধিক করার মাধ্যমে কোম্পানি ভবিষ্যতে আরও বড় বিনিয়োগের সুযোগ পায়, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান বাড়িয়ে দেয়।
সহজ কথায়, একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য।