ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’ ও ‘অভিযান’ কোন কবির রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সুকান্ত ভট্টাচার্য। খুব সহজে মনে রাখার জন্য সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থের নাম একসঙ্গে মাথায় রাখতে পারো, যার মধ্যে 'ঘুম নেই', 'পূর্বাভাস', 'মিঠেকড়া' ও 'অভিযান' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই কাব্যগ্রন্থগুলো তাঁর তারুণ্যদীপ্ত ও দ্রোহের কবিতার এক অনন্য নিদর্শন।
বিপদের মুখে আঠারো বছর বয়সের প্রকৃতি কেমন?
বিপদের মুখে আঠারো বছর বয়সের প্রকৃতি হলো অতৃণী। সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এই বয়সের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন যে, আঠারো বছর বয়স কোনো কিছুতেই তৃপ্ত হয় না।
- এই বয়সে মানুষের মনে থাকে অদম্য সাহস এবং নতুন কিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
- অতৃণী শব্দটির অর্থ হলো যে তৃপ্ত নয় বা যার আকাঙ্ক্ষা মেটেনি।
- বিপদের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই বয়সের তরুণরা কোনো বাধা বা বিপত্তিকে পরোয়া করে না, বরং তারা আরও বেশি উদ্যমী হয়ে ওঠে।
সহজ কথায়, আঠারো বছর বয়সের এই অতৃপ্ত মনই তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।
আঠারো বছর বয়স কী জানে না?
সঠিক উত্তর হলো কাঁদা। সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এই বয়সটিকে তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বিষয়টা খুব সহজভাবে ভাবলে দেখবেন:
- আঠারো বছর বয়স মানেই হলো অদম্য সাহস এবং এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।
- এই বয়সে মানুষ কোনো বাধা বা বিপত্তিকে ভয় পায় না।
- তাই কবি বলেছেন, এই বয়সে মানুষ কোনো কিছু হারিয়ে বা কোনো বিপদে পড়ে ভেঙে পড়ে না বা কাঁদতে জানে না, বরং সে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে জানে।
অর্থাৎ, আঠারো বছর বয়সের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো ভয়হীনতা এবং যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করার তীব্র জেদ।
‘এ বয়সে তাই নেই কোনো’—
এখানে সঠিক উত্তর হলো সংশয়। কবিতা বা পঙক্তিটির ভাবার্থ অনুযায়ী, জীবনের এই পর্যায়ে এসে মানুষের মনে কোনো রকম দ্বিধা বা সন্দেহের অবকাশ থাকে না। কবির উপলব্ধিতে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মনের ভেতরের সব ধোঁয়াশা কেটে যায় এবং জীবনবোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাই সেখানে কোনো সংশয় কাজ করে না।
‘আঠারো বছর বয়স’ - এ কবির কাম্য নয়—
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রাণ ব্যাকুলতা।
সুকুমার সেনগুপ্তের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি এই বয়সের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাহসিকতা, ঝড়-ঝাপটায় বুক চিতিয়ে লড়ে যাওয়া এবং দেশের জন্য রক্ত দেওয়ার মতো মহৎ কাজের কথা বলেছেন। কিন্তু এই বয়সে পিছু হটা, ভয় পাওয়া বা অহেতুক চঞ্চল ও অস্থির হয়ে পড়া— কবি মোটেও কামনা করেননি। তাই এখানে 'প্রাণ ব্যাকুলতা' বিষয়টি কবির কাম্য নয়।
‘তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা’ - এ চরণটি কোন কবিতার ?
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’ পংক্তিটির রচয়িতা —
সঠিক উত্তর হলো সুকান্ত ভট্টাচার্য।
এই পংক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা 'ছাড়পত্র' থেকে নেওয়া হয়েছে। কবিতাটিতে কবি কিশোরের আত্মপ্রত্যয় এবং অনাগত ভবিষ্যতের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন।
- কবিতাটির মূল ভাব হলো, জীবন মানেই সংগ্রাম এবং এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ নতুন কিছু অর্জন করে।
- 'প্রাণ দেওয়া-নেওয়া' বলতে এখানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া বা সাহসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মূলত তার এই ধরণের বিপ্লবী ও আশাবাদী কবিতার জন্য বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত।
‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’ কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে কবি আঠারোর প্রত্যাশা করেছেন?
সঠিক উত্তর হলো স্থিতিবাক। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়সের যে বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তা হলো এর স্থিতিবাক বা অটল সংকল্প।
- আঠারো বছর বয়সের তারুণ্য কেবল আবেগের নয়, বরং এটি হলো সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার বয়স।
- এই বয়সে মানুষ কোনো প্রলোভন বা বিপদের মুখে মাথা নত করে না, বরং নিজের আদর্শে অবিচল থাকে।
- কবি চেয়েছেন এই বয়সের মানুষেরা যেন তাদের অকুতোভয় মানসিকতা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দেশের হাল ধরে, যা সমাজ পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য।
সহজ কথায়, আঠারোর এই স্থিতিবাক বা অটল থাকার শক্তিই পারে জরাজীর্ণ সমাজকে ভেঙে নতুন কিছু গড়ে তুলতে।
দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা তার’ কোন কবিতার পংক্তি?
সঠিক উত্তর হলো আঠারো বছর বয়স। সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত এই কবিতাটি মূলত তারুণ্যের শক্তি, সাহস এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতীক।
কবিতাটির মূল ভাব ও প্রেক্ষাপট মনে রাখার সহজ উপায়:
- কবিতাটিতে কবি আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাহসিকতা ও দুর্যোগ মোকাবিলার কথা বলেছেন।
- 'দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা' পংক্তিটি দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই বয়সের তরুণরা জীবনের কঠিন সময়েও হাল না ছেড়ে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে জানে।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য তার এই কবিতায় তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন, যেখানে দুর্যোগ বা বিপদ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।