'বিজ্ঞান' শব্দে 'বি' উপসর্গ কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
'বিজ্ঞান' শব্দের 'বি' উপসর্গ কি শ্রেণীর অর্থ ব্যবহার হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিশেষ। খুব সহজে মনে রাখার একটা দুর্দান্ত টেকনিক হলো— 'বিজ্ঞান' শব্দটিতে 'বি' উপসর্গটি সাধারণ কোনো জ্ঞানকে না বুঝিয়ে, একটি বিশেষ বা বিশেষায়িত জ্ঞানকে (বিশেষ জ্ঞান) নির্দেশ করে। তাই এখানে 'বি' উপসর্গটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
‘সলাজ’, ‘সঠিক’, ‘সবার’-এ শব্দগুলোতে কোন উপসর্গের প্রয়োগ রয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো স উপসর্গ। খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, শব্দগুলোর দিকে একটু খেয়াল করলেই দেখবে মূল শব্দের আগে 'স' যুক্ত হয়ে অর্থ পরিবর্তন করেছে। যেমন—
- লজ্জা এর সাথে স যুক্ত হয়ে হয়েছে সলাজ।
- ঠিক এর সাথে স যুক্ত হয়ে হয়েছে সঠিক।
- বার এর সাথে স যুক্ত হয়ে হয়েছে সবার।
তাই এখানে ‘স’ একটি সংস্কৃত উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উনুসর্গ কোন পদ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অব্যয়।
খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, অনুসর্গ (যেমন: ধারা, দিয়া, হইতে, থেকে, প্রতি ইত্যাদি) এমন এক ধরণের শব্দ যা বাক্যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে পদের বিভক্তির মতো কাজ করে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে। যেহেতু এগুলোর নিজস্ব কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর হয় না (লিঙ্গ, বচন বা কারক ভেদে কোনো বদল ঘটে না), তাই ব্যাকরণের নিয়মে অনুসর্গগুলোকে মূলত অব্যয় পদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিদাঘ শব্দে ‘নি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: আতিশয্য।
বাংলা ব্যাকরণে 'নি' একটি উপসর্গ। 'নিদাঘ' শব্দটি গঠিত হয়েছে 'নি' উপসাগরের সাথে 'দাঘ' যুক্ত হয়ে। এখানে 'নি' উপসর্গটি কোনো সাধারণ বা বিশেষ অর্থে নয়, বরং গভীরতা বা তীব্রতা বোঝাতে অর্থাৎ আতিশয্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন— তীব্র বা প্রচণ্ড গরম বোঝাতেই 'নিদাঘ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তাই সঠিক উত্তর আতিশয্য।
‘নিদাখ’ শব্দে ‘নি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আতিশষ্য।
বাংলা ব্যাকরণে 'নি' একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ। সাধারণত বিশেষ বা নিশ্চয়তা বোঝাতে উপসর্গটি ব্যবহৃত হলেও, ‘নিদাখ’ শব্দে ‘নি’ উপসর্গটি তীব্রতা বা আতিশষ্য (অধিক্য বা বেশি বোঝাতে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এভাবে শব্দের মূল অর্থের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে উপসর্গটি চমৎকারভাবে কাজ করে।
কার অর্থবাচকতা আছে, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা নেই?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উপসর্গের। বিষয়টি খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- অর্থবাচকতা: স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে যে শব্দ বা ধ্বনির নিজস্ব অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অর্থবাচকতা বলে। যেমন—উপসর্গের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ নেই, তবে এরা অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে।
- অর্থদ্যোতকতা: স্বাধীনভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও, অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থের দ্যোতনা বা বিশেষ ভাব সৃষ্টি করার ক্ষমতাকে অর্থদ্যোতকতা বলে।
- তাই বাংলা ব্যাকরণে উপসর্গ ও অনুসর্গ-এর নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ বা অর্থবাচকতা নেই (এরা একা একা বসলে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না), কিন্তু শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি বা অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, অর্থাৎ এদের অর্থদ্যোতকতা রয়েছে। তবে বিশেষভাবে ব্যাকরণগত সংজ্ঞায় উপসর্গের ক্ষেত্রেই এই বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রযোজ্য।
'The anti-socil elements are still at large'- এর বাঙ্গানুবাদ হচ্ছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: Option A: সমাজবিরোধীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
ইংরেজি idioms বা বাগধারাগুলোর ক্ষেত্রে হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ না করে ভাবের দিকটা খেয়াল রাখতে হয়। এখানে ইংরেজিতে ব্যবহৃত "at large" ফ্রেজটির অর্থ হলো অপরাধী বা কোনো বিপজ্জন ব্যক্তির এখনও গ্রেফতার না হওয়া বা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো। তাই এর সবচেয়ে সুন্দর ও মানানসই বাংলা অনুবাদ হলো "ধরা-ছোঁয়ার বাইরে"।
Patience has its reward- এ বাক্যের যথার্থ অনুবাদ--
'Every man is for himself' - এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option B: চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।
ইংরেজি প্রবাদ 'Every man is for himself'-এর ভাবানুবাদ হলো যখন বিপদের সময় মানুষ সবার আগে নিজের স্বার্থ বা জীবন রক্ষা করার কথা চিন্তা করে। এর সাথে মিল রেখেই আমাদের দেশের প্রচলিত ও সবচেয়ে মানানসই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়, যা হলো 'চাচা আপন প্রাণ বাঁচা'।