EPA ও DHA প্রধানত কোথায় পাওয়া যায়?
EPA (Eicosapentaenoic acid) এবং DHA (Docosahexaenoic acid) হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উৎস। এগুলো মূলত সামুদ্রিক মাছের চর্বিতে প্রচুর পরিমাণে থাকে।
- মাছের চর্বি: স্যামন, টুনা, সার্ডিন বা ইলিশের মতো তৈলাক্ত মাছের চর্বিতে এই উপাদানগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- উপকারিতা: আমাদের হার্ট ভালো রাখতে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো জাদুর মতো কাজ করে।
- সহজ মনে রাখার উপায়: যখনই ওমেগা-৩ বা EPA ও DHA-এর কথা আসবে, তখনই চোখ বন্ধ করে মাছের চর্বি বা ফিশ অয়েলের কথা মনে রাখবেন।
তাই সঠিক উত্তর হলো মাছের চর্বি।
কোনটি খাদ্যের পচনরোধে সাহায্য করে?
খাদ্য সংরক্ষণে বা পচনরোধে নাইট্রেট দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মূলত প্রক্রিয়াজাত মাংস বা টিনজাত খাবারে এটি ব্যবহার করা হয়। এর পেছনের কারণগুলো খুব সহজ:
- ব্যাকটেরিয়া দমন: নাইট্রেট খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার (যেমন: Clostridium botulinum) বংশবৃদ্ধি হতে দেয় না, যা খাদ্যকে দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায়।
- রঙ ও স্বাদ ঠিক রাখা: এটি খাবারের প্রাকৃতিক রঙ এবং স্বাদ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- নিরাপত্তা: সঠিক মাত্রায় নাইট্রেটের ব্যবহার খাবারকে দীর্ঘ সময় খাওয়ার উপযোগী ও নিরাপদ রাখে।
সহজ কথায়, নাইট্রেট এক ধরণের প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে যা খাদ্যের পচন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
Diet and CVD-এর ক্ষেত্রে Omega-3 fatty acid প্রধানতঃ
এখানে সঠিক উত্তর হলো Reduce TG and Inflammation। কারণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এটি মূলত রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি (TG) এর মাত্রা কমাতে এবং শরীরের ভেতরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন (Inflammation) দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। হার্টকে সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তাই এটি ডায়েটে রাখা খুবই জরুরি।
শরীরে থাকা মোট ক্যালসিয়ামের কত শতাংশ হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৯৯ শতাংশ।
আমাদের শরীরের মোট ক্যালসিয়ামের সিংহভাগই জমা থাকে হাড় ও দাঁতে। মানবদেহে থাকা মোট ক্যালসিয়ামের প্রায় ৯৯ শতাংশ অংশই আমাদের শক্ত হাড় এবং দাঁত গঠনে ও মজবুত রাখতে সরাসরি কাজ করে। বাকি মাত্র ১ শতাংশ ক্যালসিয়াম রক্ত এবং অন্যান্য শারীরিক তরলে থেকে নার্স, পেশি ও কোষের নানা জরুরি কাজ পরিচালনা করে।
Anti-oxidant কোন খাবারে বেশী পাওয়া যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফলমূল ও শাক সবজি। কারণ আমাদের শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বা ফ্রি র্যাডিকেল দূর করতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অত্যন্ত জরুরি, যা প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় রঙিন ফলমূল, শাকসবজি এবং বিভিন্ন টাটকা খাবারে।
Anti-oxidant-এর অভাবে শরীরে কি সমস্যা হতে পারে?
সঠিক উত্তর হলো কোষের ক্ষতি। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- আমাদের শরীরে স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত ফ্রি র্যাডিক্যালস (Free Radicals) তৈরি হয়, যা কোষের জন্য ক্ষতিকর।
- অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
- শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব হলে এই ফ্রি র্যাডিক্যালগুলো কোষের ডিএনএ, প্রোটিন এবং লিপিডের ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলে কোষের স্থায়ী ক্ষতি বা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়।
সহজ কথায়, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হলো কোষের রক্ষাকবচ। তাই এর অভাবে কোষের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
Transamination-এ কোন্ Co-enzyme প্রয়োজন হয়?
Transamination বা অ্যামিনো গ্রুপের স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় PLP (Pyridoxal Phosphate) অপরিহার্য কো-এনজাইম হিসেবে কাজ করে। এটি মূলত ভিটামিন $B_6$-এর একটি সক্রিয় রূপ।
সহজ কথায় মনে রাখার উপায়:
- অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে কিটো অ্যাসিড তৈরির সময় অ্যামিনো গ্রুপটিকে ধরে রাখার জন্য একটি বাহক প্রয়োজন হয়।
- PLP এই অ্যামিনো গ্রুপটিকে সাময়িকভাবে নিজের সাথে যুক্ত করে নেয়, যা বিক্রিয়াটিকে দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
- যেহেতু এটি অ্যামিনো ট্রান্সফারেজ এনজাইমের সাথে যুক্ত থাকে, তাই এই প্রক্রিয়ায় PLP ছাড়া কাজ চালানো অসম্ভব।
মানবদেহের Enzyme-গুলি কত তাপমাত্রায় সর্বাধিক কার্যকর থাকে?
মানবদেহের এনজাইমগুলো আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত $৩৭^\circ$ সেঃ এর কাছাকাছি থাকে, তাই এনজাইমগুলো এই তাপমাত্রার আশেপাশে সবচেয়ে ভালো কাজ করতে পারে।
- আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় $৩৭^\circ$ সেঃ।
- এনজাইমগুলো সাধারণত $৩৫^\circ$ সেঃ থেকে $৪০^\circ$ সেঃ তাপমাত্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
- এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে এনজাইমের অপটিমাম তাপমাত্রা বলা হয়।
সহজ কথায়, শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে এই তাপমাত্রার পরিসরেই এনজাইমগুলো তাদের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো সবচেয়ে দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে।
Nutritional Assessment এ ABCDE approach-এ 'C' দ্বারা কী বুঝায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Clinical Assessment।
পুষ্টিগত অবস্থা মূল্যায়নের সময় ABCDE পদ্ধতিটি খুব জনপ্রিয়। এখানে প্রতিটি অক্ষরের আলাদা অর্থ রয়েছে—
- A = Anthropometric Measurement
- B = Biochemical Assessment
- C = Clinical Assessment (অর্থাৎ রোগীর শারীরিক লক্ষণ পরীক্ষা করে পুষ্টির ঘাটতি বোঝা)
- D = Dietary History
- E = Environmental Assessment
খুব সহজেই এভাবে মনে রাখতে পারো যে, 'C' দিয়ে এখানে রোগীর ক্লিনিক্যাল বা শারীরিক দিকগুলো যাচাই করাকে বোঝানো হয়েছে।
ফ্যাটি এসিড অক্সিডেশন কোথায় সংঘটিত হয়?
ফ্যাটি এসিড অক্সিডেশন বা বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়াটি মূলত কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের ধাপগুলো খেয়াল করুন:
- কোষের শক্তির প্রধান উৎস হলো মাইটোকন্ড্রিয়া, তাই শক্তির প্রয়োজনে ফ্যাটি এসিড ভেঙে শক্তি তৈরির কাজটাও এখানেই হয়।
- ফ্যাটি এসিড প্রথমে কো-এনজাইম-এ (CoA) এর সাথে যুক্ত হয়ে সক্রিয় হয় এবং এরপর মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরেই এনজাইমের সহায়তায় ফ্যাটি এসিডের দীর্ঘ চেইন ভেঙে অ্যাসিটাইল-কো-এ (Acetyl-CoA) তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ক্রেবস চক্রে অংশ নিয়ে প্রচুর পরিমাণে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
সহজ কথায়, কোষের ভেতরে ফ্যাটি এসিড পুড়িয়ে শক্তি বের করার কারখানা হিসেবে মাইটোকন্ড্রিয়াই কাজ করে।