মঙ্গলকাব্য' বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন?
সঠিক উত্তর হলো মধ্যযুগ। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: আদিযুগ, মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ।
- মঙ্গলকাব্য মূলত চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সময়সীমার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার করা, আর মঙ্গলকাব্যগুলো ঠিক এই ধারাতেই রচিত।
তাই, মঙ্গলকাব্যকে নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা হয়।
কোনটি গোলক্রিমির জন্য প্রযোজ্য?
সঠিক উত্তর হলো অন্তঃপরজীবি। গোলকৃমি কেন এই ক্যাটাগরিতে পড়ে, তা খুব সহজে বুঝে নেওয়া যাক:
- গোলকৃমি সাধারণত মানুষের বা অন্য প্রাণীর দেহের ভেতরে, বিশেষ করে অন্ত্রে বসবাস করে।
- যেসব জীব অন্য কোনো প্রাণীর দেহের ভেতরে থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে, তাদেরই বিজ্ঞানের ভাষায় অন্তঃপরজীবি (Endoparasite) বলা হয়।
- যেহেতু গোলকৃমি দেহের বাইরে নয় বরং ভেতরে থেকে ক্ষতি করে, তাই এটি অন্য কোনো অপশনের সাথে মেলে না।
সহজ কথায়, দেহের ভেতরে থাকে বলেই গোলকৃমি একটি আদর্শ অন্তঃপরজীবি।
শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় কোন শতকে?
শিল্প বিপ্লব মূলত আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৭৬০-এর দশকে) ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল। এই সময় থেকেই মানুষ কায়িক শ্রমের বদলে যন্ত্রের সাহায্যে বড় আকারে উৎপাদন শুরু করে, যা পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে।
- শুরুর সময়কাল: ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যবর্তী সময়।
- মূল কেন্দ্র: ইংল্যান্ডের টেক্সটাইল বা বস্ত্র শিল্প।
- কেন আঠারো শতক: এই সময়েই বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উদ্ভাবন এবং কয়লার ব্যবহার শিল্পকারখানায় নতুন গতির সঞ্চার করে।
সহজ কথায়, ১৭৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যুগান্তকারী পরিবর্তনটি আঠারো শতকের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বসফরাস প্রণালী কোথায় অবস্থিত?
বসফরাস প্রণালী হলো তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এটি মূলত এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশকে আলাদা করেছে এবং কৃষ্ণ সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ভৌগোলিক অবস্থান: এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের ঠিক মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে।
- গুরুত্ব: এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ, যা কৃষ্ণ সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার একমাত্র পথ হিসেবে কাজ করে।
- ম্যাপ ট্রিক: ম্যাপে তুরস্কের দিকে তাকালে দেখবেন, ইস্তাম্বুল শহরটি এই প্রণালীর দুই পাড়ে অবস্থিত, যা একে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ষাট গুম্বুজ মসজিদ। এটি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত মুসলিম আমলের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক মসজিদ। খান জাহান আলী এটি নির্মাণ করেছিলেন। চমৎকার পোড়ামাটির নকশা আর বিশাল আয়তনের জন্য এটি মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা কত শতাংশ?
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর বিষয়টি বেশ সহজ। এখানে সঠিক উত্তর হলো ১০%।
এর পেছনের কারণটি হলো:
- গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১০% মালিকানা সরকারের হাতে থাকে।
- বাকি ৯০% মালিকানা থাকে ব্যাংকটির ঋণগ্রহীতা সদস্যদের হাতে, যারা মূলত গ্রামীণ নারীরা।
সহজ কথায়, ব্যাংকটি মূলত এর সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সরকারি অংশীদারিত্ব হিসেবে সরকার এখানে ১০% শেয়ারের মালিক।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কবে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেয়া হয়?
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয় ১৮৩৯ সালে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- সংস্কৃত কলেজে পড়ার সময় তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও মেধার কারণে সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকগণ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করেন।
- তৎকালীন সময়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে এই উপাধিটি তাঁর নামের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে জুড়ে যায়।
তাই সঠিক উত্তর হলো ১৮৩৯ সাল।
কৃষক প্রজা পার্টি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৯৩৬ সাল।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে ১৯৩৬ সালে 'কৃষক প্রজা পার্টি' গঠিত হয়। রাজনীতিতে কৃষকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে এই দলটির অবদান ছিল অনেক।
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসকের নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শশাংক। কারণ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর গৌড়ের স্বাধীন রাজারা বাংলার ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেন, আর শশাংক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনিই প্রথম সমগ্র বাংলাকে একটি একক রাজনৈতিক শাসনের আওতায় নিয়ে এসেছিলেন।
দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য কত হলে স্থান দুটির মধ্যকার সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা হবে?
সঠিক উত্তর হলো ১৫°। বিষয়টি একদম সহজভাবে বোঝা যায় পৃথিবীর ঘূর্ণনের হিসাব থেকে:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘুরে আসতে অর্থাৎ ৩৬০° ঘুরতে সময় নেয় মোট ২৪ ঘণ্টা।
- তাহলে, ১ ঘণ্টায় পৃথিবী ঘোরে: $$\frac{360^\circ}{24} = 15^\circ$$
অর্থাৎ, দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৫° হলে সময়ের পার্থক্য ঠিক ১ ঘণ্টা হয়। সহজ কথায়, প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট, সেই হিসেবে ১৫ ডিগ্রির জন্য হয় $15 \times 4 = 60$ মিনিট বা ১ ঘণ্টা।