মাত্র ১টি সংসদীয় আসন কোন জেলায়?
সঠিক উত্তর হলো রাঙ্গামাটি। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা হলেও জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা মাত্র ১টি।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে রাঙ্গামাটি আয়তনে বিশাল হলেও প্রশাসনিক ও নির্বাচনী বিন্যাসে এর আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট।
- সংসদীয় আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় মূলত জনসংখ্যার ভিত্তিতে, আর রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি একটি একক নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মোড়ক। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ কৃৎপ্রত্যয় বোঝার জন্য আমাদের শুধু দেখতে হবে শব্দটি কোনো ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়েছে কি না।
- মোড়ক শব্দটি গঠিত হয়েছে মুড়্ ধাতুর সাথে -অক প্রত্যয় যোগ করে।
- যেহেতু মুড়্ একটি ক্রিয়ামূল বা ধাতু, তাই এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে শব্দটি তৈরি হয়েছে, তা-ই কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- সহজ কথায়, ক্রিয়াবাচক শব্দের সাথে যখন প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন তাকে আমরা কৃৎপ্রত্যয় বলি। এখানে 'মোড়ক' শব্দটি সেই নিয়মেই তৈরি হয়েছে।
কোন প্রাচীন সভ্যতায় চাকা আবিষ্কার হয়েছিল?
সঠিক উত্তর হলো সুমেরীয় সভ্যতা। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ ইতিহাসের পাতায় চাকার ব্যবহার প্রথম সুমেরীয়রাই শুরু করেছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে মেসোপটেমিয়ার সুমেরীয়রা প্রথম চাকা তৈরি করে।
- শুরুতে এটি মূলত মাটির পাত্র তৈরির কাজে (Potter's wheel) ব্যবহৃত হতো।
- পরবর্তীতে তারা এই প্রযুক্তিকে পরিবহনের কাজে বা রথ টানার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে, যা মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে দেয়।
সহজ কথায়, চাকার উদ্ভাবক হিসেবে সুমেরীয়রাই ইতিহাসের প্রথম সারিতে রয়েছে।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কবে প্রবর্তন করা হয়?
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সঠিক সালটি হলো ১৭৯৩। লর্ড কর্নওয়ালিস তৎকালীন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় এই ভূমি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
- এই বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল জমিদারদের জমির মালিকানা দিয়ে নিয়মিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা।
- ইতিহাসের পাতায় এটি ১৭৯৩ সালের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে পরিচিত।
- সহজভাবে মনে রাখার জন্য সালটি হলো: ১৭৯৩।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে কয়টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কণা বলেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৪ টি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিল, সেখানে মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- মিয়ানমারকে অবশ্যই গণহত্যা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
- মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা কোনো গোষ্ঠী যেন গণহত্যা না চালায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
- গণহত্যার প্রমাণ বা আলামত যেন ধ্বংস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- এই নির্দেশগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতকে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সহজ কথায়, এই ৪টি নির্দেশনার মূল লক্ষ্য ছিল মিয়ানমারের মাটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করা এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা।
বাংলাদেশের সর্ব প্রাচীন জনপদের নাম-
বাংলাদেশের সর্ব প্রাচীন জনপদের নাম হলো পুন্ড্র। ইতিহাসবিদদের মতে, এটিই ছিল বাংলার সবচেয়ে পুরনো জনপদ, যার অবস্থান ছিল বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের দিকে।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু তথ্য:
- পুন্ড্র জনপদটি প্রাচীনকালে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল এবং এর রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থানগড়)।
- ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ হিসেবে স্বীকৃত।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে।
খুব সহজে মনে রাখার কৌশল হলো, প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতা মূলত বর্তমান ইরাক অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। এই এলাকার প্রধান দুটি নদী ছিল টাইগ্রিস (দজলা) এবং ইউফ্রেটিস (ফোরাত)। এই দুই নদীর উর্বর অববাহিকায় গড়ে ওঠার কারণেই একে নদীমাতৃক সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা হয়।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ হ্রদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কাম্পিয়ান সাগর।
নামে 'সাগর' বা সমুদ্র থাকলেও এটি আসলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ হ্রদ বা জলাশয়, যা এশিয়া ও ইউরোপের মাঝখানে অবস্থিত। এর আয়তন এত বিশাল যে একে সহজেই সাগরের মতো মনে হয়!
সুমেরীয় সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: মেসোপটেমিয়ায়।
প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতাটি মূলত বর্তমান ইরাকের দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ ঐতিহাসিক মেসোপটেমিয়ায় টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। উর্বর মাটি ও নদীর সুব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই জনবসতি ও সভ্যতাটি বিকশিত হয়।
ঢাকায় ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিজড়িত স্থান কোনটি?
ঢাকায় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিজড়িত সঠিক স্থানটি হলো বাহাদুরশাহ পার্ক। এই জায়গাটি আগে 'ভিক্টোরিয়া পার্ক' নামে পরিচিত ছিল, তবে সিপাহী বিদ্রোহের বীর শহীদদের স্মরণে এর নাম পরিবর্তন করে বাহাদুরশাহ পার্ক রাখা হয়।
- ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় ঢাকার সিপাহীদের এই স্থানেই প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
- তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং মুঘল সম্রাট বাহাদুরশাহ জাফরকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
- পুরান ঢাকার সদরঘাটের কাছে অবস্থিত এই পার্কটি আজও সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।