কোনো প্রতিষ্ঠানের বয়স, আয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বাজার ভাগ করলে সেটি কোন ধরনের বিভাজন?
সঠিক উত্তর হলো জনমিতিক বিভাজন। বিষয়টি একদম সহজ—যখন আমরা কোনো বাজারের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আলাদা করি, তখন তাকে জনমিতিক বিভাজন বা ডেমোগ্রাফিক সেগমেন্টেশন বলা হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- বয়স: গ্রাহক শিশু, তরুণ নাকি বৃদ্ধ।
- আয়: গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক অবস্থা।
- লিঙ্গ: পুরুষ, নারী বা অন্যান্য।
যেহেতু এই তিনটি বিষয়ই সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে জড়িত, তাই মার্কেটিংয়ের ভাষায় একে জনমিতিক বিভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি ব্যবসায়িক কৌশল ঠিক করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি।
নিচের কোনটি মার্কেটিং মিক্সের অংশ নয়?
সঠিক উত্তর হলো লাভ। মার্কেটিং মিক্স মূলত চারটি মূল উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, যাকে সংক্ষেপে 4Ps বলা হয়। এই চারটি উপাদান হলো:
- Product (পণ্য): যা গ্রাহকের প্রয়োজন মেটায়।
- Price (মূল্য): পণ্যের বিনিময়ে গ্রাহক যে অর্থ প্রদান করে।
- Place (স্থান): পণ্যটি যেখানে পাওয়া যায় বা বণ্টন ব্যবস্থা।
- Promotion (প্রচার): পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর কৌশল।
এখানে 'লাভ' কোনো মার্কেটিং মিক্সের অংশ নয়, বরং এটি ব্যবসার একটি ফলাফল বা উদ্দেশ্য মাত্র। তাই মার্কেটিং মিক্সের তালিকায় লাভ অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
Cost-plus pricing পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়—
এখানে সঠিক উত্তর হলো মোট ব্যয়ের সাথে মুনাফা যোগ করে। বিষয়টি একদম সহজ—কোনো পণ্য তৈরি করতে যে খরচ হয়, তার সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা বা লাভ যোগ করলেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়।
সহজভাবে হিসাবটি এভাবে কাজ করে:
- প্রথমে পণ্যের উৎপাদন বা কেনা বাবদ মোট খরচ বের করা হয়।
- এরপর সেই খরচের ওপর একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বা পরিমাণ মুনাফা যোগ করা হয়।
- সূত্রটি হলো: $$\text{বিক্রয়মূল্য} = \text{মোট ব্যয়} + \text{মুনাফা}$$
এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত থাকেন যে, তাদের প্রতিটি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে খরচ উঠে আসার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত লাভও অর্জিত হচ্ছে।
বাজার বিভাজন (Market segmentation) প্রতিষ্ঠানের সহায়তা করে—
বাজার বিভাজন বা Market Segmentation-এর মূল উদ্দেশ্য হলো পুরো বাজারকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের চাহিদা বোঝা। এখানে সঠিক উত্তর হলো নির্দিষ্ট গ্রাহক গোষ্ঠী লক্ষ্য করতে, কারণ:
- বাজার বিভাজনের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে কোন ধরনের ক্রেতারা তাদের পণ্য বেশি পছন্দ করবে।
- এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বা প্রচারণার খরচ অপচয় হয় না, কারণ তারা সরাসরি তাদের টার্গেট কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারে।
- নির্দিষ্ট গ্রাহক গোষ্ঠীর পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী পণ্য তৈরি করলে বিক্রির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
সহজ কথায়, সবাইকে খুশি করার চেষ্টা না করে নির্দিষ্ট একদল মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়াই হলো এই প্রক্রিয়ার মূল কৌশল।