৭০১
পরিবারের প্রধান পুরুষটি পরিবারস্থ অন্যান্য লোকদের কী মনে করেন?
উত্তর
আশ্রিতা
সমাধান
বাড়ির প্রধান পুরুষের কাছে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিশেষ করে নারীরা কেবল ‘আশ্রিতা’ হিসেবে গণ্য হয়। তাদের থাকা-খাওয়া সব কিছুই পুরুষের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই হীনমন্যতা ও পরনির্ভরশীলতা নারীদের আত্মমর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
৭০২
মালদহে লেখিকা যে বাড়িতে যাতায়াত করেছেন তার গৃহস্বামী কে ছিলেন?
উত্তর
কলিম
সমাধান
লেখিকা মালদহে কলিম সাহেবের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে তিনি কলিমের স্ত্রীর সাথে পরিচিত হন। কলিমের এই বাড়িটি ছিল বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেক সুন্দর, কিন্তু এর ভেতরে থাকা নারীদের জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ ও বিষাদময় যা লেখিকা প্রত্যক্ষ করেছেন।
৭০৩
‘গৃহ’ প্রবন্ধে কলিমের স্ত্রীর মুখখানি কেমন ছিল?
উত্তর
চিন্তাক্লিষ্ট
সমাধান
কলিমের স্ত্রী সব সময় এক অজানা দুশ্চিন্তা ও মনোকষ্টে ভুগতেন। লেখিকা তাঁর চোখেমুখে কখনো হাসি বা আনন্দ দেখেননি। এই চিন্তাক্লিষ্ট চেহারাটি মূলত তাঁর অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও স্বামীর একচ্ছত্র আধিপত্যের কুফল হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছিল।
৭০৪
কলিমের পত্নী কার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না?
উত্তর
ভগ্নী
সমাধান
কলিম সাহেব তাঁর স্ত্রীকে তাঁর আপন বোনের সাথে দেখা করতে দিতেন না। এমনকি তারা পাশাপাশি থাকলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অমানবিক নিষ্ঠুরতা কলিমের স্ত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার কারণ ছিল যা লেখিকা বর্ণনা করেছেন।
৭০৫
কলিমের স্ত্রী আপন বোনের সাথে দেখা করতে পারে না কেন?
উত্তর
স্বামীর কঠোর নিষেধ থাকায়
সমাধান
কলিমের স্ত্রী তাঁর বোনের বাড়িতে যেতে পারতেন না কারণ তাঁর স্বামীর সেখানে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কলিমের অবাধ্য হওয়ার সাহস তাঁর ছিল না। স্বামীর এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণেই বোন হওয়া সত্ত্বেও তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
৭০৬
“হায়! বাটী যে কলিমের! তিনি যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন, যাহাকে ইচ্ছা আসিতে দিবেন না!” কলিমের এই বৈশিষ্ট্যে কীরূপ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর
আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
সমাধান
কলিম সাহেব মনে করতেন বাড়িটি তাঁর এবং সেখানে কে আসবে আর কে আসবে না তা কেবল তাঁরই ইচ্ছা। এই চরম আধিপত্যকামী মনোভাবটি দেখায় যে গৃহস্বামীরা কীভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করে ঘরের শান্তি ও সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করে ফেলতেন।
৭০৭
কার বাড়িতে কলিম পত্নীর প্রবেশ নিষেধ?
উত্তর
শ্বশুরবাড়িতে
সমাধান
কলিমের সাথে তাঁর শ্বশুরবাড়ির অর্থাৎ স্ত্রীর ভাই বা আত্মীয়দের সম্পর্ক ভালো ছিল না। সেই ঝগড়ার জের ধরে তিনি তাঁর স্ত্রীকে পিত্রালয়ে যেতে বা তাঁদের কাউকে বাড়িতে আসতে দিতেন না। এটি নারীদের ওপর পুরুষের ইগোর এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
৭০৮
কলিমের স্ত্রীর কীসের অভাব নেই?
উত্তর
অলঙ্কারের
সমাধান
কলিমের স্ত্রীর অঢেল দামী গয়না ও অলঙ্কার ছিল। কিন্তু এই প্রাণহীন ধাতুগুলো তাঁর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামাতে পারত না। তাঁর জীবনে মানসিক শান্তি ও আপনজনের সান্নিধ্য ছিল না, যা কোনো অলঙ্কার দিয়ে পূর্ণ করা কখনোই সম্ভব নয়।
৭০৯
‘গৃহ’ প্রবন্ধে কার স্ত্রী পিতৃমাতৃহীনা?
উত্তর
কলিমের
সমাধান
কলিমের স্ত্রী ছিলেন এতিম বা পিতৃমাতৃহীনা। তাঁর একমাত্র আপনজন ছিল তাঁর বোন। কিন্তু স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে সেই বোনের সাথেও তাঁর যোগাযোগ ছিল না। মা-বাবা না থাকায় তাঁর এই একাকিত্ব ও অসহায়ত্ব আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছিল।
৭১০
কলিমের স্ত্রীর কয় বোন?
উত্তর
এক
সমাধান
কলিমের স্ত্রীর একমাত্র বোন ছিল। লেখিকা বুঝিয়েছেন যে একজন মানুষের জীবনে আপনজনের সান্নিধ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই একমাত্র বোনকে দেখতে না পাওয়া কলিমের স্ত্রীর জীবনে এক অপূরণীয় শোক ও শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।