যিনি বক্তৃতা দানে পটু' তাকে এক কথায় বলে-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বাগ্মী। কারণ 'যিনি বক্তৃতা দানে পটু' — এক কথায় তাকে বাগ্মী বলা হয়। কথা বলা বা বক্তৃতা দেওয়ার শিল্পে যিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং সাবলীল, বাংলা ব্যাকরণে তার জন্য এই নির্দিষ্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
কোনটি সম্পদ শব্দের বিপরীত শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অসার।
সম্পদ মানে হলো ধনদৌলত, পুঞ্জীভূত শক্তি বা সারবত্তা। অন্যদিকে 'অসার' শব্দের অর্থ হলো যা সারহীন, মূল্যহীন বা গুরুত্বহীন। বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে সম্পদ-এর উল্টো অর্থ প্রকাশ করে বলেই অসার শব্দটি সঠিক উত্তর।
ফারসি উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বেতার।
খুব সহজে মনে রাখার কৌশল হলো:
- 'বে' একটি খাঁটি ফারসি উপসর্গ।
- যেসব শব্দের শুরুতে 'বে' উপসর্গ থাকে (যেমন: বেতার, বেহায়া, বেনামি), সেগুলোর বেশিরভাগই ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত হয়।
তাই একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে, 'বেতার' শব্দটিতে ফারসি উপসর্গের ব্যবহার রয়েছে।
কোনটি 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উবী। কারণ 'উবী' শব্দটি প্রাচীন বাংলা ও সংস্কৃত অভিধান অনুযায়ী 'পৃথিবী' বা ধরিত্রীর একটি সুন্দর ও প্রচলিত সমার্থক শব্দ।
অন্য শব্দগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, 'কাণ্ডার' মানে পথপ্রদর্শক বা মাঝি, 'প্রসূতি' অর্থ যে নারী সন্তান প্রসব করেছেন, এবং 'অরবিন্দ' হলো পদ্ম ফুলের একটি চমৎকার নাম। তাই সবদিক থেকেই সঠিক বিকল্পটি হলো উবী।
স্তবকটিতে কয়টি গাছের নামের উল্লেখ রয়েছে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পাঁচটি।
কবিতা বা স্তবকটি ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, সেখানে কবির প্রকৃতি বন্দনায় মোট পাঁচটি নির্দিষ্ট গাছের নাম খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। তাই ঝটপট সঠিক উত্তরটি হবে পাঁচটি!
কোন বর্ণের পরবর্তী পদমধ্যস্থিত 'ন' 'ণ' তে পরিণত হয় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো র। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে ঋ, র এবং ষ — এই বর্ণগুলোর পরে যদি দন্ত্য 'ন' থাকে, তবে তা পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য 'ণ' হয়ে যায়।
- সহজ কথায় মনে রাখার নিয়ম: ঋ, র, ষ-এর পরে সবসময় মূর্ধন্য ণ বসে।
- যেমন: প্র + মান = প্রমাণ (এখানে 'র'-এর পরে 'ন' না হয়ে 'ণ' হয়েছে)।
নিচের কোন শব্দটি ভুল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মুহর্মুহূ, কারণ বানানটি ভুল। শুদ্ধ বানানটি হবে মুহুরমুহু।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু নিয়ম:
- শব্দটির গঠন হলো মুহু + মুহু। সন্ধি বা সমাসবদ্ধ হওয়ার সময় এর বানানে বিশেষ পরিবর্তন আসে।
- বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের শব্দে সাধারণত দীর্ঘ-ঊ (ূ) কারের ব্যবহার হয় না, বরং হ্রস্ব-উ (ু) কার ব্যবহার করাই নিয়ম।
- তাই সঠিক রূপটি হবে মুহুরমুহু, যেখানে উভয় ক্ষেত্রেই হ্রস্ব-উ (ু) কার ব্যবহৃত হয়েছে।
কোন মূল ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ইন্দো-ইউরোপীয়। বিষয়টি খুব সহজে মনে রাখতে পারেন এভাবে:
- পৃথিবীর অনেক বড় বড় ভাষার জন্ম হয়েছে একটি মূল প্রাচীন ভাষা থেকে, যার নাম ইন্দো-ইউরোপীয় বা মূল আ্যারেয়ান।
- এই মূল বংশধারা থেকেই প্রাকৃত ও অপভ্রংশ হয়ে আমাদের বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
- তাই বাংলা ভাষার মূল উৎস হিসেবে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশকেই ধরা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটক কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রক্তকরবী। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত প্রতীকধর্মী নাটক। এই নাটকে যন্ত্রসভ্যতার বিরুদ্ধে মানুষের জয়গান এবং প্রেমের মূর্ত প্রতীক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিপাতনে সিদ্ধ হয়েছে কোন শব্দটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পরস্পর। কারণ এটি ব্যাকরণের কোনো সাধারণ নিয়ম বা সন্ধির নিয়ম মেনে গঠিত হয়নি, বরং নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রাকৃতিকভাবে নিপাতনে সিদ্ধ হয়েছে। তাই সরাসরি শব্দটির গঠন মনে রাখলেই এটি খুব সহজে আয়ত্ত করা যায়।