৭১১
অলঙ্কার কলিমের পিতৃমাতৃহীনা স্ত্রীর কীসের যন্ত্রণা ভোলাতে পারে না?
উত্তর
একমাত্র ভগ্নীর বিচ্ছেদ
সমাধান
গয়না বা ধন-সম্পদ কখনো মানুষের মনের হাহাকার দূর করতে পারে না। লেখিকা বুঝিয়েছেন যে নারীর জন্য অলঙ্কার নয়, বরং ভালোবাসা ও আপনজনের সান্নিধ্য বেশি জরুরি। কলিমের স্ত্রীর ক্ষেত্রে অলঙ্কারগুলো ছিল সোনার শিকলের মতো যা তাকে শান্তি দিতে পারেনি।
৭১২
‘অলঙ্কার কি পিতৃমাতৃহীনা অবলার একমাত্র ভগ্নীর বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ভুলাইতে পারে?’ লেখিকার এমন প্রশ্নের কারণ কী?
উত্তর
নারীর প্রতি সহানুভূতি
সমাধান
লেখিকা অত্যন্ত সহমর্মিতার সাথে নারীর এই মানসিক কষ্টের কথা বলেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন যে সমাজ ও পুরুষেরা মনে করে অলঙ্কার দিলেই নারীরা খুশি থাকে, কিন্তু তারা নারীর মনের গহীন খবর জানে না। এই সহানুভূতিই রোকেয়াকে অনন্য করে তুলেছে।
৭১৩
‘গৃহ’ প্রবন্ধে কার সতিন ছিল বলে শোনা যায়?
উত্তর
কলিমের স্ত্রীর
সমাধান
কলিমের স্ত্রীর একটি বড় দুঃখের কারণ ছিল তাঁর সতিন। তৎকালীন সমাজে বহুবিবাহ প্রথা ছিল সাধারণ বিষয়, যা নারীদের জীবনে চরম অশান্তি ও অবহেলার কারণ হয়ে দাঁড়াত। কলিমের স্ত্রীর জীবনেও এই সতিন সমস্যা তাঁর দুঃখকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৭১৪
কলিমের স্ত্রীর অন্ন, বস্ত্র বা অলঙ্কার থাকার পরেও তার নিকট গৃহ শান্তি নিকেতন বোধ হতে পারে না কেন?
উত্তর
স্বামীর আধিপত্যবাদ
সমাধান
গৃহ বা বাড়ি মানেই শান্তি নয়। যদি সেখানে স্বামীর নিষ্ঠুর আধিপত্য থাকে এবং স্ত্রীর কোনো সম্মান না থাকে, তবে তা নরকতুল্য। কলিমের স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর অন্ন-বস্ত্রের অভাব না থাকলেও স্বামীর একনায়কতন্ত্রের কারণে সেখানে শান্তির লেশমাত্র ছিল না।
৭১৫
‘গৃহ’ প্রবন্ধে কার প্রভূত সম্পত্তি আছে?
উত্তর
শরাফত উকিলের
সমাধান
শরাফত উকিল ছিলেন একজন বিত্তবান মানুষ। তাঁর প্রচুর অর্থ ও জমিজমা ছিল। কিন্তু তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির প্রাচুর্যের আড়ালে তাঁর বাড়ির নারীরা ছিল বন্দী। এই সম্পদ তাদের কোনো স্বাধীনতা বা প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারেনি যা লেখিকা স্পষ্ট করেছেন।
৭১৬
কোনটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস?
উত্তর
অপরাজিত
সমাধান
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অপরাজিত' অমর সৃষ্টি 'পথের পাঁচালী'র পরবর্তী অংশ। এটি লেখকের জীবনের নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছায়ায় রচিত একটি সার্থক আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যেখানে অপুর শৈশব পেরিয়ে বড় হওয়ার গল্প অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে।
৭১৭
'আহ্বান' গল্পে বুড়ির স্বামী কী কাজ করত?
উত্তর
করাতের কাজ
সমাধান
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধা বা বুড়ির স্বামী জমির পেশায় একজন করাতি ছিলেন। লেখকের বর্ণনায় গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের সহজ-সরল জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে জমির করাতি ছিলেন সেই জনপদেরই একজন অতি সাধারণ মানুষ যার পরিচয় বুড়ির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
৭১৮
'আহ্বান' গল্পে বুড়ি কে?
উত্তর
জমির করাতির স্ত্রী
সমাধান
গল্পের শুরুতেই লেখক আমাদের স্পষ্টভাবে জানান যে বুড়ি হলো মৃত জমির করাতির স্ত্রী। গ্রামের মানুষের কাছে সে ছিল এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধা, যার অকৃত্রিম স্নেহের টানেই লেখক বারবার সেই অজপাড়াগাঁয়ে ফিরে এসেছিলেন এবং মানবিক সম্পর্কের এক নতুন রূপ খুঁজে পান।
৭১৯
'দ্যাও বাবা- তুমিও দ্যাও' 'আহ্বান' গল্পের এ উক্তিটি কার?
উত্তর
শুকুর মিয়া
সমাধান
লেখক যখন বৃদ্ধাকে কিছু পয়সা দিতে চাইলেন, তখন পাশের বাড়ির শুকুর মিয়া এই চমৎকার উক্তিটি করে। গ্রামীণ সহজ-সরল সম্পর্কের মাঝেও যে এক ধরনের গভীর মমত্ববোধ ও অধিকারবোধ কাজ করে, তারই এক চমৎকার ও জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই উক্তির মাধ্যমে।
৭২০
'আহ্বান' গল্পে বুড়িকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর
মাকাল গাছ তলায়
সমাধান
বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে গ্রামের মাকাল গাছ তলায় পরম মমতায় কবর দেওয়া হয়। গল্পের শেষ দৃশ্যে এই বিষাদময় স্থানটির নিপুণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা এক অত্যন্ত মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক আবহের সৃষ্টি করে প্রতিটি সংবেদনশীল পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর রেখাপাত করে।