৭৬১
'তেনার বড্ড অসুখ। এবার বোধ হয় বাঁচবে না।' কে বাঁচবে না?
উত্তর
বুড়ি
সমাধান
গল্পের শেষের দিকে লেখক যখন অনেকদিন পর পুনরায় গ্রামে ফিরে আসেন, তখন শুকুর মিয়া তাঁকে অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত মনে জানান যে বৃদ্ধা বা বুড়ি বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ এবং সম্ভবত সে এবার আর বাঁচবে না। এটি গল্পের এক অত্যন্ত করুণ ও মরমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।
৭৬২
'আহ্বান' গল্পটি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছে?
উত্তর
উত্তমপুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে
সমাধান
এই কালজয়ী গল্পে লেখক নিজে একজন প্রধান চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং নিজের জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা অত্যন্ত সহজভাবে বর্ণনা করেছেন। তাই এই বর্ণনার বিশেষ রীতিকে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণের ভাষায় 'উত্তমপুরুষের দৃষ্টিকোণ' বা ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভ বলা হয়।
৭৬৩
লেখকের বাবার পুরাতন বন্ধু কে?
উত্তর
গ্রামের চক্কোত্তি মহাশয়
সমাধান
লেখক যখন গ্রামে যান, তখন তাঁর মৃত বাবার পরম শ্রদ্ধেয় ও পুরনো বন্ধু চক্কত্তি মহাশয় তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। বাবার বন্ধুর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও তাঁর মূল্যবান উপদেশের মাধ্যমেই লেখক গ্রামীণ পরিবেশ ও ঐতিহ্যের সাথে পুনরায় নিবিড়ভাবে যুক্ত হন।
৭৬৪
'এসো, এসো, বেঁচে থাক।' শীর্ষক বাক্যটি অর্থগত শ্রেণিবিভাগে কোন বাক্যের অন্তর্গত?
উত্তর
অনুজ্ঞা বাক্য
সমাধান
এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটির মাধ্যমে কাউকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করা বা মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে। বাংলা ব্যাকরণগতভাবে যখন কোনো বাক্য দ্বারা আদেশ, উপদেশ, বিনয় বা প্রার্থনা বোঝানো হয়, তখন সেই ধরনের বাক্যকে অনুজ্ঞা বা অনুজ্ঞাসূচক বাক্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৭৬৫
'চুকে যাওয়া' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
মিটে যাওয়া বা শেষ হওয়া
সমাধান
কোনো কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়া, কোনো বিষয় মিটে যাওয়া বা কোনো ঝামেলার চিরস্থায়ী সমাধান হয়ে যাওয়াকে গ্রামের চলতি ভাষায় 'চুকে যাওয়া' বলা হয়। লেখক এই শব্দটির সার্থক ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি বোঝাতে চেয়েছেন তাঁর শৈল্পিক বর্ণনায়।
৭৬৬
আম বাগানে প্রথম দেখায় বুড়ি কীরকম দৃষ্টিতে লেখকের দিকে চেয়েছিল?
উত্তর
জিজ্ঞাসু
সমাধান
আমবাগানে লেখকের সাথে প্রথম দেখাতেই বৃদ্ধা তাঁকে ঠিক চিনতে পারেননি। তিনি অত্যন্ত উৎসুক হয়ে এবং চোখে এক ধরনের গভীর জিজ্ঞাসা নিয়ে লেখকের মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, যেন তিনি অনেকদিন আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের কাউকেই খুঁজে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত।
৭৬৭
লেখকের কলকাতা চলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর
ছুটি ফুরিয়ে যাওয়া
সমাধান
গল্পকথক বা লেখক মূলত তাঁর জীবিকা ও কর্মসূত্রে বড় শহর কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতেন। তাঁর পৈতৃক ভিটার সংস্কার কাজ ও দীর্ঘ ছুটির সময় শেষ হওয়ার কারণেই তাঁকে বারবার শান্ত মায়াময় গ্রাম ছেড়ে যান্ত্রিক ও ব্যস্ত শহর কলকাতায় ফিরে যেতে হতো জীবিকার তাগিদে।
৭৬৮
কলকাতায় লেখকের একবারও বুড়িকে মনে না পড়ার কারণ কী?
উত্তর
কর্মব্যস্ততার কারণে
সমাধান
শহরের অত্যন্ত কর্মব্যস্ত জীবন এবং যান্ত্রিকতা মানুষের মন থেকে অনেক সময় সহজ ও সুন্দর স্মৃতিগুলোকে মুছে দেয়। লেখকও তেমনি কলকাতার তীব্র ব্যস্ততায় গ্রামের সেই বৃদ্ধার সহজ সরল কথা ও তাঁর পবিত্র অকৃত্রিম স্নেহের কথা সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অজান্তেই।
৭৬৯
'ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্ত' শব্দগুচ্ছে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
উত্তর
দারিদ্র্যের চরম দশা
সমাধান
বৃদ্ধার পরনের জীর্ণ ও নোংরা কাপড়ের বর্ণনা দিয়ে লেখক মূলত তাঁর চরম দরিদ্র দশা ও গ্রামীণ অভাবী মানুষের করুণ জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই সামান্য একটি তথ্যের মাধ্যমেই বৃদ্ধার সারাজীবনের সীমাহীন অভাব-অনটনের এক অত্যন্ত মূর্ত ও জীবন্ত ছবি আমাদের চোখের সামনে ফুটে ওঠে।
৭৭০
বুড়ির সম্বোধনে লেখকের বড় ভালো লাগার কারণ কী?
উত্তর
ঘনিষ্ঠ আদরের সম্বোধন
সমাধান
বৃদ্ধা লেখককে অত্যন্ত আপন ভেবে পরম আদরে 'ওরে আমার গোপাল' বলে ডাকত। এই মা ডাকের মতো অত্যন্ত মায়াবী ও হৃদস্পর্শী সম্বোধন লেখকের মনের গহীনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও অকৃত্রিম ভালো লাগার সৃষ্টি করত, যা তাঁকে বারবার তাঁর ফেলে আসা শৈশবের মতো স্মৃতিকাতর করে তুলত।