হীরাকে বায়ুতে পোড়ালে কী উৎপন্ন হয়?
হীরা মূলত কার্বনের একটি বিশুদ্ধ রূপ। যখন হীরাকে বাতাসের অক্সিজেনে পোড়ানো হয়, তখন এটি বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে।
সহজ কথায় বিষয়টি হলো:
- হীরা হলো বিশুদ্ধ কার্বন ($C$)।
- বাতাসে পোড়ানোর অর্থ হলো অক্সিজেনের ($O_2$) সাথে বিক্রিয়া ঘটানো।
- বিক্রিয়াটি হলো: $$C + O_2 \rightarrow CO_2$$
যেহেতু হীরা পুরোপুরি কার্বন দিয়ে তৈরি, তাই এটি পুড়ে যাওয়ার পর কোনো ছাই বা অবশিষ্ট অংশ থাকে না, পুরোটাই গ্যাসীয় অবস্থায় বাতাসে মিশে যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো $CO_2$।
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয়লাভ করেছিল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: 167।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে এককভাবে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমেই বাঙালির স্বাধীনতার পথ নিশ্চিত হয়েছিল।
কোনটি চৌম্বক পদার্থ?
সঠিক উত্তর হলো কোবাল্ট। বিষয়টি মনে রাখা খুবই সহজ!
চৌম্বক পদার্থ বলতে আমরা মূলত সেই সব ধাতুকে বুঝি, যাদের চুম্বক খুব সহজেই আকর্ষণ করতে পারে। এই ধরনের পদার্থকে বিজ্ঞানের ভাষায় ফেরো-ম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। এর পেছনে সহজ কিছু কারণ রয়েছে:
- কোবাল্ট, লোহা এবং নিকেল হলো প্রকৃতির প্রধান তিনটি চৌম্বক পদার্থ।
- এদের পারমাণবিক গঠনের কারণে এরা চুম্বকের উপস্থিতিতে খুব শক্তিশালী আকর্ষণ অনুভব করে।
- দৈনন্দিন জীবনে শক্তিশালী চুম্বক তৈরির ক্ষেত্রে কোবাল্ট একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তাই যখনই চৌম্বক পদার্থের কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে কোবাল্ট, লোহা বা নিকেলের নাম মনে রাখলেই আপনার উত্তর সঠিক হবে!
সিলিং ফ্যানের পাখা কত ডিগ্রিতে অবস্থান করে?
সিলিং ফ্যানের পাখাগুলো সাধারণত ১২০ ডিগ্রিতে অবস্থান করে। এর কারণটা খুব সহজ, ফ্যানের পাখার ভারসাম্য বজায় রাখা।
- একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় ৩৬০ ডিগ্রিতে।
- সাধারণত একটি সিলিং ফ্যানে ৩টি পাখা থাকে।
- পাখাগুলো একে অপরের থেকে সমান দূরত্বে থাকার জন্য ৩৬০ ডিগ্রিকে ৩ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- হিসাবটি হলো: $$\frac{360^\circ}{3} = 120^\circ$$
এভাবে ১২০ ডিগ্রি কোণে পাখাগুলো থাকার ফলে ফ্যানটি ঘোরার সময় বাতাসের চাপ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফ্যানটি কাঁপে না।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক বন্ডের নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সুকুক।
সুকুক (Sukuk) হলো মূলত ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক এক ধরণের বন্ড বা সার্টিফিকেট, যা প্রচলিত সুদী বন্ডের একটি বিকল্প ব্যবস্থা। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্পদ বা ব্যবসার অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যেখানে প্রচলিত সুদের (রিবা) কোনো কারবার থাকে না। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে শরীয়াহ সম্মত বিনিয়োগ ও তহবিল সংগ্রহের জন্য সুকুক বন্ড বেশ জনপ্রিয়।
সিলিং ফ্যানের পাখা কত ডিগ্রিতে অবস্থান করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১২-১৬ ডিগ্রি।
সিলিং ফ্যানের পাখাগুলো সমান্তরালভাবে না রেখে একটু বাঁকিয়ে বা নির্দিষ্ট কোণে তৈরি করা হয়। ফ্যানের ব্লেডের এই বিশেষ নতি বা অ্যাঙ্গেল বাতাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে বাতাস সহজে ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফ্যানের কাজের দক্ষতা বাড়াতেই এই কোণটি সাধারণত $12^\circ$ থেকে $16^\circ$ এর মধ্যে রাখা হয়।
আলট্রাসনোগ্রাম কী?
আলট্রাসনোগ্রাম মূলত শব্দ তরঙ্গের একটি বিশেষ রূপ। এখানে সঠিক উত্তর হলো অতি উচ্চ কম্পনসম্পন্ন শব্দ তরঙ্গ, কারণ বিষয়টি বেশ সহজ:
- মানুষ সাধারণত $20\text{ Hz}$ থেকে $20,000\text{ Hz}$ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়।
- আলট্রাসনোগ্রামে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়, তার কম্পাঙ্ক $20,000\text{ Hz}$-এর চেয়ে অনেক বেশি থাকে।
- এই উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দগুলো শরীরের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন অঙ্গের বাধা পেয়ে প্রতিফলিত হয়, যা থেকে আমরা শরীরের ভেতরের ছবি তৈরি করতে পারি।
সহজ কথায়, এটি কোনো ক্ষতিকর রশ্মি নয়, বরং উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের অবস্থা দেখার একটি নিরাপদ প্রযুক্তি।
মহাবিস্ফোরণ থিউরির প্রবক্তা কোন বিজ্ঞানী ?
মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং থিউরির প্রবক্তা হলেন জর্জ লেমেটার। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জর্জ লেমেটার প্রথম গাণিতিকভাবে দেখান যে, মহাবিশ্ব স্থির নয় বরং এটি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
- তিনি প্রস্তাব করেন যে, মহাবিশ্ব একটি অতি ক্ষুদ্র ও ঘন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল, যা পরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- পরবর্তীতে এডুইন হাবল তার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লেমেটারের এই তত্ত্বকে আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করেন।
সহজ কথায়, মহাবিশ্বের সৃষ্টির আদি রহস্য উন্মোচনে জর্জ লেমেটার-এর অবদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের জনক হিসেবে তাকেই গণ্য করা হয়।
তরঙ্গটির কম্পাংক কত হার্জ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো 80। তরঙ্গ বা পর্যাবৃত্ত গতির ক্ষেত্রে কম্পাংক বের করার নিয়মটা খুব সহজ।
- প্রথমে দেখতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে কয়টি পূর্ণ তরঙ্গ তৈরি হয়েছে।
- মোট কম্পাংক বা কম্পাঙ্কের সূত্র অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত পূর্ণ তরঙ্গের সংখ্যাই হলো কম্পাংক ($f$)।
- এখানে সঠিক সূত্রটি প্রয়োগ করলে সরাসরি মান চলে আসে: $f = \frac{n}{t}$।
- হিসাব করলে ফলাফল পাওয়া যায় $80\text{ Hz}$।
হাইড্রোজেনের ভূমি অবস্থায় শক্তি - 13.6 eV হলে, দ্বিতীয় কক্ষের শক্তি কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো - 3.4 eV। খুব সহজেই বোরের পরমাণু মডেলের শক্তিস্তরের সূত্র দিয়ে এটি বের করা যায়:
- হাইড্রোজেন পরমাণুর যেকোনো কক্ষপথের শক্তি বের করার সূত্রটি হলো: $E_n = \frac{E_1}{n^2}$
- এখানে প্রথম কক্ষপথ বা ভূমি অবস্থার শক্তি $E_1 = -13.6 \text{ eV}$ এবং দ্বিতীয় কক্ষের জন্য প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা $n = 2$
- মানগুলো বসিয়ে পাই, $E_2 = \frac{-13.6}{2^2} = \frac{-13.6}{4} = -3.4 \text{ eV}$
অর্থাৎ, কক্ষপথের নম্বর বাড়লে শক্তি কমানের পরিমাণ $n^2$ এর ব্যস্তানুপাতে কমতে থাকে।