৭৩১
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা কী নামে প্রকাশিত হতো? [বেRU :B ১২-১৩: ১১-১২]
উত্তর
মিসেস আর. এস. হোসেন
সমাধান
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে বেগম রোকেয়া সরাসরি নিজের নামে সব লেখা প্রকাশ করতে পারতেন না। তাঁর অনেক রচনা 'মিসেস আর. এস. হোসেন' নামে প্রকাশিত হতো। এই তথ্যটি তাঁর সংগ্রামী জীবনের এক বিশেষ দিক ফুটিয়ে তোলে, যা তোমাদের পরীক্ষার জন্য জরুরি।
৭৩২
বেগম রোকেয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘অবরোধবাসিনী’ প্রকাশিত হয়- [ঢাবি-গ ৯৪-৯৫]
উত্তর
১৯৩১ খ্রি.
সমাধান
বেগম রোকেয়ার ‘অবরোধবাসিনী’ তাঁর একটি অসামান্য রচনা যেখানে তিনি অবরোধ প্রথার করুণ ও হাস্যকর চিত্রগুলো তুলে ধরেছেন। গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। নারীদের ওপর আরোপিত অন্যায্য বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে এটি এক শক্তিশালী প্রতিবাদী দলিল।
৭৩৩
বাড়ির বাইরে না যাওয়াকে জমিলা কী হিসেবে দেখে?
উত্তর
বংশগৌরব
সমাধান
‘গৃহ’ প্রবন্ধে জমিলা তাঁর বংশের কঠোর পর্দানশীনতাকে একটি ঐতিহ্য ও বংশীয় গৌরব হিসেবে মনে করতেন। তিনি বাইরের পৃথিবীর আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত থাকাকেই বরং আভিজাত্য হিসেবে দেখতেন, যা তৎকালীন সমাজের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দিককে তুলে ধরে।
৭৩৪
‘ইনি আমার আত্মীয় কন্যা’ কার সম্পর্কে জমিলা এ উক্তিটি করেছে?
উত্তর
ভাবি
সমাধান
জমিলা তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকে অর্থাৎ ভাবিকে ‘আত্মীয় কন্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মূলত অন্দরমহলের নারীদের পারিবারিক সম্পর্কের বিন্যাস এবং একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের এক বিশেষ দিক এখানে প্রাবন্ধিক অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৭৩৫
কলিমের স্ত্রীকে প্রাবন্ধিক কখনো কেমন দেখেননি?
উত্তর
প্রফুল্লমুখী
সমাধান
কলিমের স্ত্রী সব সময় এক বিষণ্ণ ও চিন্তাক্লিষ্ট অবস্থায় থাকতেন। লেখিকা তাঁকে কখনোই প্রফুল্ল বা আনন্দিত দেখেননি। এই বিষয়টি কলিমের স্ত্রীর মানসিক বন্দিদশা ও সাংসারিক একঘেয়েমির করুণ ছবি ফুটিয়ে তোলে, যা পাঠকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করে।
৭৩৬
‘গৃহ’ প্রবন্ধে কে বিধবা ছিলেন?
উত্তর
রমাসুন্দরী
সমাধান
‘গৃহ’ প্রবন্ধে রমাসুন্দরী চরিত্রটি একজন বিধবা নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর জীবনের লড়াই ও অবস্থান দেখানোর মাধ্যমে লেখিকা তৎকালীন হিন্দু সমাজ ও পরিবারে বিধবা নারীদের যে অসহায়ত্ব ও অবজ্ঞার শিকার হতে হতো, তার একটি বাস্তব চিত্র দিয়েছেন।
৭৩৭
অন্তঃপুরের পর্দা উঠিয়ে ভিতরের দৃশ্য দেখালে ভ্রাতৃগণ অত্যন্ত ব্যথিত হবেন কেন?
উত্তর
স্বরূপ উন্মোচনের অপমানে
সমাধান
নারীরা ঘরের ভেতর কী অবস্থায় আছে বা তারা কতটা অবহেলার শিকার, তা যদি পুরুষেরা জানতে পারেন, তবে তাদের মিথ্যা পুরুষত্ব ও আভিজাত্যের স্বরূপ উন্মোচিত হবে। এতে তারা অত্যন্ত অপমানিত বোধ করবেন বলেই লেখিকা এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যটি করেছেন।
৭৩৮
‘গৃহ’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক একবার কোন স্থানের নিকটবর্তী শহরে বেড়াতে গিয়েছিলেন?
উত্তর
জামালপুর
সমাধান
বেগম রোকেয়া তাঁর বর্ণনায় জামালপুর শহরের নিকটবর্তী এক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এই সফরের মাধ্যমেই তিনি বিভিন্ন পরিবারের অন্দরমহলের চিত্র দেখার সুযোগ পান এবং নারীদের করুণ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন যা তিনি প্রবন্ধে লিখেছেন।
৭৩৯
‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকার কোন বাড়ির স্ত্রীলোকদের দেখতে আগ্রহ হয়?
উত্তর
শরাফত উকিলের বাড়ির
সমাধান
শরাফত উকিলের বাড়ির নারীরা অত্যন্ত কঠোর পর্দার আড়ালে বাস করতেন। লেখিকা সেই পরিবারের অন্দরমহল এবং সেখানকার নারীদের জীবনযাত্রা দেখার জন্য প্রবল কৌতূহল ও আগ্রহ বোধ করেছিলেন, যা প্রবন্ধের কাহিনীতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
৭৪০
শরাফত উকিলের বাড়ির মহিলারা অতিশয় মিষ্টভাষিণী হলেও তারা ছিলেন-
উত্তর
কূপমণ্ডূক
সমাধান
শরাফত উকিলের বাড়ির মহিলারা দেখতে সুন্দর ও কথা বলতে পটু হলেও তাদের বাইরের জগত সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তারা কুয়োর ব্যাঙের মতো ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল, তাই লেখিকা তাদের ‘কূপমণ্ডূক’ বলে অভিহিত করে তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।